04/09/2026
শুভ জন্মাষ্টমী ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (প্রারব্ধ বলবান)
"দেখ, শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের পরম বন্ধু । দুর্বাসা যে দিন অতিথি রূপে যুধিষ্ঠিরের আশ্রমে উপস্থিত হয়েছিলেন, সেদিন দ্রৌপদী স্মরণ করা মাত্র শ্রীকৃষ্ণ এসে পাণ্ডবদের মহাবিপদ হতে উদ্ধার করেছিলেন ।অথচ এমন বন্ধু থাকতেও পাণ্ডবরা যে লাঞ্ছনা ভোগ করেছেন অন্য কেউ তা ভোগ করেছে কি ? তাঁদের রাজ্য গেল, বনবাসী হলেন । বিরাট রাজ্যে এসে মৎস্যরাজের দাসত্ব করলেন, শেষ পর্যন্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপন ভাগিনেয় অভিমন্যুকে সপ্তরথী মিলে অন্যায়ভাবে হত্যা করল । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারলেন না ।
আবার দেখ, স্বয়ং জগন্মাতা-- তাঁর পিতার ছাগমুণ্ড হল, পুত্রের হস্তীমুণ্ড । তাঁর স্বামী এক গাঁজাখোর পাগল, শ্মশানে থাকেন । জগন্মাতা ত'এর কোন প্রতিকার করতে পারেন নি । সুতরাং প্রারব্ধ বলবান ।
প্রারব্ধ নিশ্চয় ভোগ করতে হবে । আমার কাছে দীক্ষা নিতে এলে দীক্ষা দেওয়ার আগে আমি তাকে এসব রহস্য ভালভাবে বুঝিয়ে দিই ।
আমি সব কিছু পার্থিব কামনা পুরণ করে দেব আমার সম্বন্ধে যার এ রকম ধারণা, আমি তাকে দীক্ষা দিই না বা শিষ্য বলে স্বীকার করি না । কারণ এ রকম ধারণা নিয়ে দীক্ষা নিলে গুরুর প্রতি অবিশ্বাস জন্মে, তাঁর কাছে আসল প্রাপ্য যা তা হতে শিষ্য বঞ্চিত হয় । প্রারব্ধ তো ক্ষয় হয়ই না উপরন্তু পরকালে উন্নতির আশাও নষ্ট হয়ে যায় । আমার উপর যার এরকম ধারণা তারা ভাবে যিনি সামান্য রোগ ভাল করতে পারেন না, তিনি ভবরোগ নাশ করবেন কি করে ? যার মনে এ ভাব আসে সে তদনুযায়ী ফল পায় । কথায় আছে---
" মন্ত্রে , তীর্থে, দেবে,দ্বিজে, দৈবজ্ঞে, ভেষজে, গুরৌ
যাদৃশী র্ভাবনা যস্য সিদ্ধি র্ভবতি তাদৃশী ।"
----- শ্রী শ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব পরমহংসদেব।
🌼জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু 🌼
সদ্-গুরু নিগমানন্দ পরমহংসদেব