24/04/2026
দৃষ্টি আকর্ষণী
মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়,
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মহোদয় ও প্রতিমন্ত্রী জনাব এম এ মুহিত মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)।
আমরা জানি,
বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়।সাধারণত মে–জুন মাস থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুরু হয়ে জুলাই–সেপ্টেম্বর মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অক্টোবর–নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে,যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রতি বছর অনেক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায় যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকে জাতির সামনে উন্মুক্ত করে।
এই প্রেক্ষাপটে, ডেঙ্গু সিজন শুরুর আগেই কার্যকর ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)পরিবার।
বিষয়গুলো হল.....
১. দেশব্যাপী সমন্বিত মশকী নিধন কর্মসূচি (larvicidal ও adulticidal) জোরদার করা
২. সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর জন্য "ডেঙ্গু কর্ণার" এর ব্যবস্থা করা যেখানে থাকবে পর্যাপ্ত শয্যা, খাবার স্যালাইন ও ইনফিউশন স্যালাইন,ব্লাড প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম।
৩. প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে সার্বক্ষণিক, ইমার্জেন্সী ও নির্ভুল ডেঙ্গু নির্ণয়ের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা (NS1, IgM) করা।প্রয়োজনে ফ্রি করে দেওয়া।যাতে রোগীরা সহজে রোগ নির্ণয় করতে পারেন।
৪. সরকারী হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়।কিন্তু খারাপ অবস্থায় দ্রুততার সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজনে এসব রোগীদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা।নাহলে রোগীরা রোগ নির্ণয়ের আগেই মারা যাবার আশঙ্কা করছে এনএইচএ।
৫. চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আপডেটেড গাইডলাইন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৬. জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো (বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণ বিষয়ে) এবং জনগণের মাঝে এটা পৌঁছে দেওয়া যে,একটু সচেতন হলেও এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৭. সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত পরিবেশ পরিস্কার কার্যক্রম নিশ্চিত করা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য মহামারী পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তাই জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছে এনএইচএ পরিবার।
বার্তাপ্রেরক,
ডা. মো. আব্দুস সালাম
দপ্তর সম্পাদক (কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটি)
ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)