13/07/2026
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে গিয়ে এমন হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হব কখনো কল্পনাও করিনি।
চারদিকে শুধু পানি আর পানি। নেই বিদ্যুৎ, নেই খাবার, নেই মাথা গোঁজার মতো আশ্রয়। কেউ বলছেন, খাবার আছে কিন্তু রান্না করার কোনো উপায় নেই। কেউ ৫-৭ দিন না খেয়ে আছেন।
দিনের পর দিন কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকায় অনেকের হাত-পায়ে ঘা হয়ে গেছে। কেউ অসুস্থ শরীর নিয়ে শুয়ে আছেন-না আছে ওষুধ, না আছে চিকিৎসার ব্যবস্থা। আবার কেউ দৌড়ে এসে শুধু বলছেন, "ভাই, একটু খাবার পানি হবে?"
এসব আর্তনাদ শুনে নিজেকেই বড় অসহায় মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, যদি আরও আগে আসতে পারতাম! যদি আরও আগে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারতাম!
এই যাত্রায় মানবতার সবচেয়ে সুন্দর রূপও দেখেছি। একজন হিন্দু ভাই মাথায় উপহার সামগ্রী তুলে নিয়ে বললেন, "ভাই, আপনি আমার পেছন পেছন আসেন, আমি নিয়ে যাচ্ছি।" আবার গভীর রাতে এক বোন মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে কোমর সমান পানির মধ্যে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, "এই দশ দিনে আমাদের এলাকায় আপনারাই প্রথম এসেছেন। সবাই মেইন রোড পর্যন্ত এসে ফিরে গেছে। এখানে পানি বেশি বলে কেউ আসেনি।"
সবচেয়ে অবাক হয়েছি তাদের ধৈর্য আর আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস দেখে। আমরা বলছিলাম, "আমরা তেমন কিছু আনতে পারিনি শুধু খিচুরি কিছু শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি আর প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি।" অথচ তারাই বললেন, "আপনারা আমাদের দেখতে এসেছেন, এটাই আমাদের জন্য অনেক। কিছু না পেলেও আমরা আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করি। সবই আল্লাহর হুকুম ও রহমত।"
সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে এই কথাগুলোই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানুষের দোয়া, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার হাসি এগুলোই আমাদের শক্তি।
আল্লাহ তাআলা বন্যাকবলিত সকল মানুষকে দ্রুত এই বিপদ থেকে মুক্তি দান করুন, তাদের জান-মাল হেফাজত করুন এবং তাদের ঘরে আবার শান্তি ফিরিয়ে দিন।
আসুন, আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আপনার সামান্য সহযোগিতাও কারও জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।