02/10/2026
চাঁদপুর সরকারি কলেজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের দিকে তাকালেই মনে হয়, প্রতিষ্ঠানটি যেন “যা ইচ্ছা তাই” নীতিতে চলছে!
ওয়েবসাইটে চাঁদপুর সরকারি কলেজের পরিচয়ের জায়গায় এমন সব তথ্য দেওয়া হয়েছে, যেখানে নারী শিক্ষার ইতিহাস, গাইবান্ধা, মহিলা কলেজসহ অন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্যও দেখা যাচ্ছে।
ওয়েবসাইটের অবস্থা দেখে প্রশ্ন জাগে কলেজটিও কি তাহলে একইভাবে পরিচালিত হচ্ছে?
জুলাই-পরবর্তী সময়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল রসিদ ছাড়া কলেজে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এখন নেওয়া হচ্ছে কেন?
যেমন, এখনো কেন বিভিন্ন বিভাগে ইনকোর্স পরীক্ষার নামে বিভাগভিত্তিক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে?
আর একই বিষয়ে যদি ফরম ফিলাপের সময়ও টাকা নেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই দফায় টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কী?
আবার ক্লাসে অনুপস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীদের জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু যে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের দায়িত্ব বিকেল ৪টা পর্যন্ত, সেখানে দুপুর ১টার পর অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগে সম্মানিত শিক্ষক তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় কেরানিকেও পাওয়া যায় না। তাহলে দায়িত্ব ও জবাবদিহির হিসাবটা কার কাছে?
অনেক শ্রদ্ধেয় মহোদয় বৃহস্পতিবার নিয়মিত কলেজে না করার অভিযোগও রয়েছে। প্রশ্ন থেকেই যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সময় ও অন্যান্য সম্পদ কি ব্যক্তিগত ইচ্ছেমতো ব্যবহারের জন্য?
এরপর রয়েছে ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ভাইভার নামে বিভিন্ন ধরনের ফি আদায়ের অভিযোগ। প্রত্যায়ন পত্র, সার্টিফিকেট আর হারানো রেজিষ্ট্রেশন কার্ড উঠানো ফি কি নির্ধারিত?
মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি টাকা খুবই কষ্টের টাকা। কারও বাবা দিনমজুর, কারও বাবা কৃষক, কারও বাবা ছোট ব্যবসায়ী। কেউ আবার নিজের টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালায়।
সেই ঘাম ঝরানো টাকার প্রতি কি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়বদ্ধতা নেই?
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, একই কলেজে যেন দুই ধরনের প্রশাসন চলছে। বিভাগে এক নিয়ম, কলেজ প্রশাসনে আরেক নিয়ম। ডিপার্টমেন্টের কোন অভিযোগ অফিসে জানালে তারা বলে তা সম্পর্কে তারা অবগত নন।
আর কোনো প্রয়োজন নিয়ে কলেজ অফিস কিংবা সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হলে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী তখনই বুঝতে পারে এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী হয়েও সে কতটা অসহায়!
আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ চাই না।
আমরা চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ। চাঁদপুর সরকারি কলেজ কারও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। এটি শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান, জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব চাঁদপুর সরকারি কলেজ চেয়েছি যেখানে শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তর থাকবে, প্রতিটি টাকার হিসাব থাকবে এবং দায়িত্বের জায়গায় থাকবে দায়িত্বশীলতা।