04/12/2025
হজে গিয়েই অজান্তে যে গুনাহগুলো হয়ে যায় — যা অনেক হাজী জানেনই না!
হজের ভিড়, গরম, ক্লান্তি—এই সবের মাঝে এমন অনেক ভুল অজান্তেই হয়ে যায়…
কিন্তু এগুলোই হজের ফজিলত কমিয়ে দিতে পারে।
১) মানুষকে কষ্ট দেওয়া
ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি, রূঢ় আচরণ — এগুলো শুধু কষ্ট দেয় না, গুনাহও।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“মুসলিম সে, যার হাত ও মুখ থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।”
— সহিহ বুখারি
২) ঝগড়া, তর্ক, গীবত
কোরআন কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“হজে কোন রাফাস নেই, পাপ নেই, ঝগড়া নেই।”
— সূরা বাকারা ২:১৯৭
হজে আপনার মুখটাই আপনার ইবাদত।
৩) দৃষ্টির গুনাহ
ভিড় বেশি = পরীক্ষাও বেশি।
কিন্তু তাকানোর ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা ফরজ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “অপ্রত্যাশিত প্রথম দৃষ্টি মাফ, তবে দ্বিতীয় দৃষ্টি নয়।”
— তিরমিযী (হাসান)
অনিচ্ছাকৃত নয়—ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়াই প্রকৃত তাকওয়া।
৪) পথ ব্লক করা / দাঁড়িয়ে ভিডিও করা
কাবার সামনে, সিঁড়িতে, দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা = হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ।
এটা হুকুকুল ইবাদ লঙ্ঘন—কাউকে আটকে রাখলে তার হজের ক্ষতি, দায় আপনার গায়ে।
৫) সেলফি, লাইভ, শো-অফ ভিডিও
এগুলো ইখলাস নষ্ট করতে পারে।
নবী ﷺ বলেছেন:
“যে রিয়া করে, তার জন্য রিয়া।”
— সহিহ মুসলিম
হজ কন্টেন্ট বানানোর জায়গা নয়—দোয়া ও ইবাদতের জায়গা।
৬) লাইন ভাঙ্গা / জায়গা দখল / অন্যের অধিকার খাওয়া
আল্লাহর কাছে মাফ হলেও—মানুষ মাফ না করলে চলবে না।
হজে কারও অধিকার নষ্ট করলে তার দায়ও সাথে যাবে।
৭) হাজরে আসওয়াদ ছোঁয়ার নামে বিশৃঙ্খলা
কালো পাথর ছোঁয়া সুন্নাহ—
কিন্তু কাউকে কষ্ট দিয়ে করলে সেটা সুন্নাহ নয়—গুনাহ।
না ছুঁয়ে ইশারা করলেও সুন্নাহ সম্পন্ন।
শেষ কথা:
ভিড় আপনি থামাতে পারবেন না।
কিন্তু নিজের ধৈর্য, দৃষ্টি, আচরণ—শতভাগ আপনার নিয়ন্ত্রণে।
এগুলো ঠিক রাখলেই আপনার হজ আরও বরকতময় হবে, ইনশাআল্লাহ।
👉 হজে গিয়ে আপনি কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি দেখেছেন?
কমেন্টে শুধু নাম্বার লিখে জানান—১ থেকে ৭ এর মধ্যে। 👇