12/10/2026
ধুনটের গর্ব, আমাদের অহংকার
Hafizur Rahman
কিছু মানুষকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা
গর্বিত হই, আবার কিছু মানুষকে সম্মানিত
করার সুযোগ পেয়ে নিজেরাই সম্মানিত
বোধ করি। মোঃ হাফিজুর রহমান
তাঁদেরই একজন।
জন্মগতভাবে যে মানুষটির হাত-পা অচল,
অথচ তিনি অদম্য ও অপ্রতিরোধ্য,
তার ইচ্ছাশক্তি সচল!
শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেকোনো মানুষের পথ
কঠিন করতে পারে, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি,
সেই পথেই সৃষ্টি করতে পারে অনন্য দৃষ্টান্ত।
জীবনের সামান্য বাঁধাতেই
যখন আমরা হতাশ হয়ে পড়ি, তখন
হাফিজুর রহমানের জীবন আমাদেরকে
নতুন করে ভাবতে শেখায়। তিনি বুঝিয়ে দেন-
মানুষের প্রকৃত শক্তি তার শারীরিক সক্ষমতায়
নয়, বরং তার মনোবল, অধ্যবসায় এবং স্বপ্ন
পূরণের অদম্য আকাঙ্ক্ষায় তার শক্তি নিহিত।
আমরা কত সহজেই হাল ছেড়ে দিই!
সামান্য ব্যর্থতা, একটু অপমান, জীবনের
ছোট্ট কোনো বাধা কিংবা প্রত্যাশা পূরণ না
হলেই হতাশায় ডুবে যাই। মনে হয়, আর বুঝি
পারব না, আর বুঝি এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু একবার...
তাকিয়ে দেখুন হাফিজের দিকে!
যে হাত দিয়ে আমরা কলম ধরি, যে
আঙুল দিয়ে কিবোর্ডে লিখি, যে পা দিয়ে
অনায়াসে গন্তব্যে পৌঁছে যাই, জন্মগতভাবে
হাফিজের সেই হাত-পা তাঁর সম্পূর্ণ অকেজো!
অথচ তিনি থেমে যাননি। নিজের মুখে তুলে
নিয়েছেন কলম, মুখের সাহায্যে লেখেন,
কম্পিউটার পরিচালনা করেন।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে
অর্জন করেছেন উচ্চশিক্ষা, এবং সমাজেও
প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের যোগ্যতা ও পরিচয়।
২০১০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত
হ্যানডি ম্যারাথন প্রোগ্রামে বাংলাদেশের
প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা
তাঁর জীবন সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
একবার ভাবুন, যে কাজটি করতে আমাদের
হাতের সামান্য ব্যথা কিংবা শরীরের একটু
ক্লান্তিই যথেষ্ট অজুহাত হয়ে দাঁড়ায়, সেই
কাজগুলো তিনি করেন অসীম ধৈর্য,
অধ্যবসায়, প্রবল মানসিক শক্তি
আর সাহস নিয়ে।
যেখানে আমরা সামান্য বাঁধায় নিজেদের
অসহায় ভাবি, সেখানে তিনি প্রতিটি বাঁধাকে
অতিক্রম করতে অভিনব পন্থা খুঁজে বের করেন।
হাফিজুর রহমান আমাদের করুণা পাওয়ার
গল্প নন। তিনি আমাদের শেখার মতো একটি
চরিত্র এবং অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
তার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়-
মানুষের সামর্থ্য শুধু তার শরীরের শক্তিতে
মাপা যায় না। মানুষের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে
থাকে তার মনোবল, সাহস, অধ্যবসায় আর হার না মানার সংকল্পে ও সেই অনুযায়ী চেষ্টায়।
জীবনে ব্যর্থতা আসবে, মানুষ অবহেলা
করবে, স্বপ্নের পথে বাঁধা আসবে, এটাই বাস্তবতা।
কিন্তু বাঁধা আসা মানেই পথ শেষ হয়ে যাওয়া
নয়। কখনো কখনো আমাদের সবচেয়ে বড়
প্রতিবন্ধকতা শরীরের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং
নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা।
তাই যখন মনে হবে আর পারছি না, যখন
সামান্য সমস্যায় ভেঙে পড়তে ইচ্ছে করবে,
তখন হাফিজুর রহমানের কথা মনে করবেন।
একজন মানুষ তাঁর হাত-পা ব্যবহার করতে
না পারলেও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি,
চেষ্টা করা বন্ধ করেননি, নিজের
যোগ্যতা প্রমাণের পথ থেকে
কখনো সরে দাঁড়াননি।
সকল প্রতিকুলতাকে অসীম সাহসী মনোবল
আর কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তিনি
তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন।
কারণ জীবনে সফল হওয়ার জন্য
সকল সুযোগ-সুবিধা থাকা জরুরি নয়,
জরুরি হলো- যা আছে,
তা নিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
হাফিজুর রহমান,
আপনি শুধু একজন সংগ্রামী মানুষ নন, আপনি আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন:
আমরা কি সত্যিই চেষ্টা করছি, না-কি
সামান্য বাঁধাকেই অজুহাত বানিয়ে থেমে যাচ্ছি?
আপনার অদম্য মনোবলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
আপনার জীবন আরও অনেক মানুষকে
হতাশার অন্ধকার থেকে আশার
আলোয় ফিরিয়ে আনুক।
এমন একজন সংগ্রামী, ও অনুপ্রেরণাদায়ী
মানুষকে আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থা’র
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত করতে
পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-
হাফিজের জীবনসংগ্রাম, কর্মনিষ্ঠা ও ইতিবাচক মানসিকতা আমাদের সংস্থার মানবিক আদর্শকে আরো অর্থবহ করে তুলবে।
অদম্য হাফিজুর রহমানের প্রতি আমরা আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
আমরা ধুনটবাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
তিনি আমাদেরকে যেভাবে সম্মানিত
করেছেন এবং অনুপ্রেরণার বন্ধন
তৈরি করেছেন, এজন্য আমরা
তার কাছে গভীর কৃতজ্ঞ।
হাফিজকে পেয়ে আমরা গর্বিত,
কারণ আমরা এমন একজন মানুষকে
আমাদের পরিবারের অংশ হিসেবে পেয়েছি,
যার জীবন'ই একটি অনুপ্রেরণার পাঠশালা।