18/12/2025
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দ্বীপ জেলা ছাত্র ফোরাম-এর শোক ও নিন্দা বিবৃতি
জুলাই যোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী কণ্ঠস্বর মহান বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদী–এর শাহাদাতের খবরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।
গত ১২ই ডিসেম্বর তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে অবশেষে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমরা বিশ্বাস করি—এটি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়; বরং এটি দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বিষয় হলো—এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিরা নির্বিঘ্নে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, অথচ আজও তাদের গ্রেপ্তার কিংবা বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা বাংলাদেশের প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও দুর্বলতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে এভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে—এটি জাতির জন্য গভীর উদ্বেগজনক ও লজ্জার।
দ্বীপ জেলা ছাত্র ফোরাম দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে—
আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত,
খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার,
এবং ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক কণ্ঠ রক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।
শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক সাহসী প্রতীক। তাঁর রক্ত বৃথা যেতে পারে না। তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য :
দ্বীপ জেলা ছাত্র ফোরামের সভাপতি, Md Al Amin বলেন—
“শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদাত আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এই হত্যার বিচার না হলে জাতি কখনো নিরাপদ থাকবে না। আমরা রাজপথে ও সকল গণতান্ত্রিক মাধ্যমে এই হত্যার বিচার আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, এম কাফিল উদ্দিন বলেন —
“একজন বিপ্লবী কণ্ঠকে গুলি করে থামানো যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। প্রশাসনের ব্যর্থতা ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। আমরা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাই।”
বার্তা প্রেরক :
দ্বীপ জেলা ছাত্র ফোরাম