05/02/2025
টিন এজারদের মতি গতি ও মা-বাবার করনীয়।
২০১৩ সালের কথা। আমার মোহাম্মদ পুর চাঁন মিয়া হাউজিং এর বাসায় রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাত ১১টার বেশী বাজে। টিংটং করে কলিংবেল বাজলো। এত রাতে কে এলো আবার ? আমার ছেলে গিয়ে দরজা খুলে আমার মেয়েকে এসে বলে তোমার কাছে কে যেন এসেছে।মেয়ে তখন SSC পরীক্ষা কেবল দিয়েছে।তার বয়েসি একটি মেয়ে এসে তার রুমে ঢুকলো।বউকে জিজ্ঞেস করলাম কে ? বল্লো চিনি না, প্রমির সাথে পড়ে নাকি।
পরে মেয়ে এসে জানালো এই মেয়েটি আজ রাতে আমাদের বাসায় থাকতে চায় ! বল্লাম কেন ? সে বাসা থেকে রাগ করে এসেছে। তুমি চেন একে ? বলে আমাদের সাথে কোচিং এ পড়তো।বাসা চিনলো কি করে, আগে এসেছে আমাদের বাসায় ? মেয়ে জানালো তার বান্ধবীদের সাথে একদিন এসেছিল। তার কাছের কোন বান্ধবী সে না, শুধু কোচিং এ কিছুদিন এক ব্যাচে পড়েছে।বল্লাম ওকে খেতে দাও আগে।
খাওয়া শেষে আমি মেয়ের রুমে গিয়ে দেখি ফুলের মতো সুন্দর এক্টা মেয়ে ! কি সুন্দর চোখ, নাক। হলুদ ফর্সা গায়ের রং, লম্বা স্লিম এক্টা মেয়ে। বয়স ১৫/১৬ হবে। আমাদের পাশেই মোহাম্মদিয়া হাউজিং এ থাকে।কেন রাগ করেছ জিজ্ঞেস করলে বলে। তার বাবা তাকে বকেছে, বাসায় গেলে মারবে। বল্লাম আমি বাসায় দিয়ে আসবো, তোমাকে মারবে না। বলে সে আমার নিজের বাবা না, আমার বাবা আমার দুই বছর বয়সে মারা গেছে, তার পর মা এই লোককে বিয়ে করেছে। আমার নিজের বাবার কথা মনে নাই। তোমার আর ভাই বোন আছে ? না, আমি একা। এই লোককে তুমি কি ডাকো ? বাবা। তারও আর সন্তান নাই সুতরাং তুমিই তাদের একমাত্র সন্তান ? জ্বী।
ওর সাথে কথা বলতে বলতে রাত ১২টার বেশী হয়ে গেছে।এমন একটি মেয়ে রাতের বেলায় ঢাকা শহরে বাসা থেকে রাগ করে একা বেড়িয়ে গেছে। রাত ১২টায় ও বাসায় ফিরেনি ওর মা-বাবার মনের অবস্থা চিন্তা করে আমার রক্ত হিম হয়ে যাচ্ছে। মা সোনা ঢেকে অনেক বুঝিয়ে, অনেক কাকুতি মিনতি করেও মেয়েটির কাছ থেকে ওর মায়ের ফোন নম্বর নিতে পারলাম না। আমরা থাকতে না দিলে সে চলে যাবে ! কিন্তু কিছুতেই সে বাসায় ফিরবে না।শুধু রাতটা থাকতে চায়, সকালে সে চলে যাবে।
সকালে তুমি কোথায় যাবে ? বলে তার খালার বাসায় সাভারে যাবে। বল্লাম খালাকে ফোন দাও আমি কথা বলবো। সে খালাত ভাইকে ফোন লাগিয়ে দিল। কথা বলে দেখি এই ছেলে তার খালাত ভাই না, তার প্রেমিক ! এই ছেলের বাড়ি বাগের হাট। HSC পাস করে ঢাকায় ভর্তি কোচিং করতে আসছে। এসে এই মেয়ের সাথে প্রেম ! বল্লাম বাবা জানে ? দেখলাম ছেলেও চায় না মেয়েটি তার কাছে যাক। সে বোনের বাসায় সাভারে থাকে।পরেছি মহাবিপদে। সকালে অফিসও আছে। এই মেয়ের সাথে বার্গেইনিং করতে করতে রাত ১টা পেরিয়ে গেছে। আমার মেয়ে ওর বাসাও চিনে না।
শেষে মেয়েটি আমাকে বল্লো, আংকেল, আপনি সকালে অফিসে চলে যান, অফিস থেকে ফিরে বিকালে আমাকে বাসায় দিয়ে আসবেন। মা-বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন যাতে আমাকে না মারে।উপায়ান্তর না দেখে আমি মেয়ের কথায় রাজি হলাম।আমার মেয়ের সাথে সে ঘুমালো।
আমার ফ্লাটের মূল দরজা ভেতর থেকে নরমাল লক করে ঘুমাই। আজ ওরা ঘুমিয়ে গেলে আমি চুপ করে গিয়ে দরজাটি চাবি দিয়ে লক করে আসি।এমনিতে তা কখনোই করি না।
ঘুম থেকে উঠে আমি অবাক ! ওই মেয়ে ঘরে নাই। আমাদের ঘুমে রেখে কখন যেন চলে গেছে ! সে চুরি করে আমাদের বেড রুমে ঢুকে ওয়াড্রোবের উপর থেকে চাবী নিয়ে দরজা খুলে চলে গেছে ! এখন পড়লাম আরেক দুঃশ্চিন্তায়। এই মেয়ে কোথায় গেল, কি হলো মেয়েটার, কার মেয়ে নানান চিন্তা। আমার মেয়েকে বল্লাম এই মেয়ে আমাদের বাসায় এসেছিল কাউকে বলার দরকার নাই।
মাস দুয়েক পরে আমার বউ এই মেয়েটিকে জাপান গার্ডেনের সামনে দেখেছে। এই খবর জেনে নিশ্চিন্ত হলাম যে মেয়েটি মা-বাবার কাছে ফিরেছে।মেয়েদের এই বয়সটা সাংঘাতিক রকমের সেনসেটিভ। মা-বাবাকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই বয়সী মেয়েদের হ্যান্ডেল করতে হয়।
সাবা মেয়েটির বয়স ১১ বেশী হলে ১২/১৩ হবে।ঘরে ওর মা ক্যানসারের রুগী।এই মেয়েটিও একটি কিশোর ছেলের সাথে চলে গেছে। মেয়েটি বাসায় কি পরিবেশে আছে, তার পরিস্থিতিগত সাইকোলজি আমরা কিছুই জানি না। ভাল খবর হচ্ছে মেয়েটিকে সুস্থ পাওয়া গেছে।
কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় অনেক শিক্ষিত লোক ফেইসবুকে এই বাচ্চাটিকে নিয়ে অনেক বাজে মন্তব্য করছে। কেউ কেউ বিয়ের বয়স কমানোর প্রস্তাব করছে। বিয়ের বয়স কমিয়ে ১২/১৩ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ? তার জীবন মসৃন হয়ে যাবে ? অদ্ভূত আপনাদের চিন্তা ভাবনা ! এই বাচ্চাটিকে নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করতে পারে তারা কেউ ভাল মানুষ না। মন থেকে তারা খুব নীচু মানসিকতা বহন করে।সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এই বাচ্চাটি একটি সুন্দর জীবন পাক, এই কামনা।
পার্ক হাউস, পার্ক এভিনিউ, নিউ ইয়র্ক
ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৫ মঙ্গলবার।
আপনার মাথার একটি চুল। সেটা দিয়েই আপনাকে প্রভাবিত করা যাবে। আপনি দূরে বসেই বুঝতে পারবেন, কেউ আপনাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
প্রাচীন, জটিল এবং বিরল এই টেকনিক কিভাবে যেন চিকিৎসাশাস্ত্রেও চলে এসেছে। ফলে চুলের শক্তিকে ব্যবহার করে দূরের রোগীকে নিরাময় করার কাজটিও চলছে হাজার বছর ধরে। জটCAST এর নতুন পর্বে আমাদের সাথে আছেন এমনই একজন। দীর্ঘ আলাপে বেশকিছু গোপনীয় বিষয় প্রকাশ্যে উঠে এসেছে।
জানা গেছে,
১) "ফ্রি-মেসন সাইন" কিভাবে আমরা নিজের অজান্তেই ব্যবহার করে ফেলছি।
২) হোয়াইট ম্যাজিক ও ব্ল্যাক ম্যাজিক মুখোমুখি হলে কী ঘটে?
৩) অন্তরচক্ষু ও থার্ড আইয়ের মধ্যে পার্থক্য
৪) কিভাবে DNA তে লেপ্টে থাকা বেনিফিশিয়ারি জিন আপনাকে মুহূর্তেই সুস্থ করে ফেলতে পারে
আরও অনেক কিছু। দেখার আমন্ত্রণ।
জটCAST পর্ব-৪ : "চুলের শক্তি" আপনাকে সুস্থ করবে।
৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, রাত ৮টা।
বিদ্র : এই পর্বটির বেশীরভাগ জুড়ে আছে জেনেটিক হোমিওপ্যাথি এবং বায়োলজিক্যাল সায়েন্স নিয়ে আলোচনা। ফলে অনেকের কাছে বোরিং লাগতেও পারে। তবে কোনোভাবে সাবজেক্টে প্রবেশ করতে পারলে, অপার্থিব আনন্দে ডুবে যাবেন আশাকরি।
মন্তব্য প্রত্যাশিত, তবে রুচিশীলতা কাম্য।