18/09/2026
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব বাঁশ দিবস। ঘাস পরিবারের বৃহত্তম এই সদস্য শুধু প্রকৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৈশ্বিকভাবে বাঁশ শিল্পের উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বিশ্ব বাঁশ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৮ম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর দিনটিকে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস ২০২৬’-এর অফিসিয়াল প্রতিপাদ্য বা থিম হচ্ছে, “Bamboo Beyond Borders. সহজ বাংলায় বলতে গেলে “ বৈশ্বিক সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ”। তাই বলা যায় বাঁশ একটি আর্ন্তজাতিক উদ্ভিদ। এ বছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঁশ দিবসের ১৭ তম আয়োজন।
‘বাঁশ ‘বাংলাদেশে এই শব্দটাই বেশ সংবেদনশীল এবং নেতিবাচক উপমায় ব্যবহার হয়। বাঁশ দিবসকে প্রথম দেখায় ভুল করে কেউ কেউ বাঁশ দেওয়া দিবস মনে করতে পারেন। বাঙালির জীবনে বাঁশের ব্যঙ্গাত্মক ব্যবহার এত বেশি যে, ‘কাউকে বাঁশ দিয়েছি’, ‘বাঁশ খেয়েছি’ এই সরল স্বীকারক্তিগুলো একেবারে প্রবাদ পর্যায়ে চলে গেছে। তবে বাঁশ দেওয়া/বাঁশ খাওয়া শব্দটি শুধুমাত্র বাংলাতেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। উপরন্তু জনপ্রিয় চাইনিজ প্রবাদ, ‘Like Bamboo, the higher you grow, the lower you bow,’ থেকে আমরা বলতে পারি, বাঁশ আমাদের বিনয় শিক্ষা দেয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শুধু বাঁশ দেওয়া-নেওয়া চললেও সত্যিকার অর্থে বাঁশের ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম।
বাঁশ আমাদের চির পরিচিত বনজ সম্পদ। বাঁশ হলো 'পোয়াসি' (Poaceae) গোত্রভুক্ত এক ধরণের বৃক্ষসদৃশ ঘাস। এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ, যা দীর্ঘাকৃতির, বিস্তৃত এবং বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী; এর বৈশিষ্ট্য হলো প্রতি বছর নতুন কাণ্ড (culm) বা বাঁশ গজানোর ক্ষমতা। পরিবেশ-বান্ধব হওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে জৈব-ভর (biomass) উৎপাদনের পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও ভূমিক্ষয় রোধে ভূমিকা রাখার কারণে এটি কাঠের একটি সহজ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। বাঁশের সাথে আমাদের আদিবাসী- সংস্কৃতির সম্বন্ধ সেই আদিকাল থেকে। শিল্পকাজে, ব্যবহারিক জীবনে, খাদ্য সামগ্রী ও ভেষজগুণে বাঁশের চাহিদা সারা বিশ্বে ক্রমর্বধমান। পৃথিবীব্যাপী বাঁশের চাষাবাদ যেমনি বাড়ছে, তেমনি প্রতিনিয়ত বাঁশ নিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ উন্নতমানের দৃষ্টিনন্দন শিল্পসামগ্রী তৈরি হচ্ছে। বিশ্বায়নের যুগে বাড়ছে বাঁশজাত পণ্যের বানিজ্যিক সম্ভাবনাও। বর্তমান বিশ্বে বাঁশের বাজার প্রায় শত বিলিয়ন ডলারের, যেটা অদূর ভবিষ্যতে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।