মকবুল হোসেন ১৯৩৭ সালে বৃহত্তর যশোর জেলার হরিনাকুন্ডু থানার কামারখালি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা ছামাদ আলী মন্ডল এবং পিতামহ মিয়াজান মন্ডল কৃষক ছিলেন। প্রপিতামহ মেহের আলী মন্ডল কোলকাতায় কর্মজীবন শুরু করেন এবং শেষ জীবনে জোড়াদহ নীলকুঠির ইংরেজদের খানসামা হিসাবে কাজ করেন।
ইংরেজ রাজত্ব শেষে, পূর্বপুরুষ এতদঞ্চলে জোরপূর্বক নীলচাষের উদ্যোক্তা ইংরেজ ‘সাহেব’দের কর্মচারী থাকায়, মকবুল হোসেনের পরিবা
র গ্রামবাসীদের দ্বারা মারাত্মক অসুবিধায় পড়ে। অহেতুক মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত হয়ে অবশেষে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।
তথাপি, মকবুল হোসেন তাঁর বংশের প্রথম ব্যক্তি হিসাবে স্কুলে যান এবং অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসাবে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসে প্রথম স্থান অর্জন করেন। দারিদ্রের কারনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে না পারলেও জোড়াদহ হাইস্কুল (বিদ্যালয়টি ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা করেন ইংরেজ নীলকুঠিয়াল উইলিয়াম জেমস শেরিফ। ১৯১৮ সাথে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী স্বীকৃতি দেয়)থেকে ১৯৫৬ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক এবং সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রী অর্জন করেন। মুদি দোকানদারি, কাপড়ের ব্যবসায়, শিক্ষকতা, ইউনিয়ন কাউন্সিলের সচিব, সরকারি ভূমি অফিসের নাজির ইত্যাদি হিসাবে তিনি কর্মজীবন যাপন করেন। ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
লড়াই করে টিকে থাকার মত সাহস আর শক্তি তাঁর ছিল। তিনি একজন আত্ম-আবিষ্কৃত মানুষ ছিলেন। মেধা, বিনয়, উদারতা আর আধুনিকতা ইত্যাদি গুনাবলী সহ যে সব কারনে মানুষ বিখ্যাত হয় সেগুলির সবই তাঁর ছিল। কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে তাঁর স্বপ্নকুড়িগুলি প্রস্ফুটিত হতে পারেনি।
১৯৫৮ সালের সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের প্রয়োজনীয় ফিস মকবুল হোসেনের ছিলো না। কিশোরী নববধু জাহেদা খাতুন তাঁর একমাত্র সোনার গহনা বিক্রি করে পরীক্ষার ফিস দিয়েছিলেন। ঘটনা সামান্য, কিন্তু অসামান্য তার প্রভাব। এইভাবে সমস্ত জীবন জাহেদা খাতুন, মকবুল হোসেনকে শক্তি যুগিয়েছেন। জগত সংসারের অগোচরে এরকম কত সংগ্রামে মানুষের বিজয় ঘটে কিন্তু তার জন্য কোন বিজয়গাঁথা রচিত হয়না।
এই দুজন বিজয়ী কিন্তু অপরিচিত মানুষের স্বপ্নবীজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে জাহেদা মকবুল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়েছে। জাহেদা খাতুন এবং মকবুল হোসেন উভয়েই খুব সাধারন মানুষ। সাধারন মানুষদের সাধারনত অস্বীকার করা হয়, সমাজ রাষ্ট্র তাঁদের অবদান স্বীকার করেনা। জাহেদা মকবুল ফাউন্ডেশন সাধারনের সংগ্রাম আর স্বপ্নের লড়াইকে সম্মান জানিয়ে সাধারন কিন্তু লড়াকু মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়।