Al Hera Welfare Foundation

Al Hera Welfare Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Al Hera Welfare Foundation, Charitable organisation, প্রধান কার্যালয় : দক্ষিণ কোলাপাড়া জামে মসজিদ, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ।.

আল-হেরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
শিক্ষা, দাওয়াহ ও মানবকল্যাণে নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতাই সুবিধাবঞ্চিত ও দারিদ্রপীড়িত মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

আসুন! কল্যাণের পথে চলি একসাথে 💝

15/06/2026

রোমানরা বলত, "জনগণকে অবাধ আনন্দ-বিনোদন দাও, তারা আর প্রশ্ন করবে না।"

প্রায় দুই হাজার বছর আগে উচ্চারিত এই কথাটি আজও বিস্ময়করভাবে প্রাসঙ্গিক। যখন মানুষের চিন্তা, আলোচনা ও মনোযোগ কেবল ভোগ-বিলাস আর বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তখন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।

একটি সচেতন জাতি শুধু বিনোদন উপভোগ করে না, বরং রাষ্ট্র, সমাজ, ন্যায়বিচার ও নিজের অধিকার সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলে। কারণ প্রশ্নহীনতা কখনো অগ্রগতির লক্ষণ নয়; বরং তা অনেক সময় উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি।

রুটি প্রয়োজন, বিনোদনও প্রয়োজন; কিন্তু সেটা অবাধ ও হারাম পন্থায় নয়।

✍️ Manjur Morshid Murad

#সচেতনতা #চিন্তাশক্তি #সমাজ #ইতিহাস

18/05/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। যেহেতু বাংলাদেশে জিলহজ্জ মাসের চাঁদ আজকে মাগরিবের পর উঠার সম্ভাব্না রয়েছে।
আজকের ভিতরে সবাই সবার নখ চুল ও শরীরে লোম কেটে ফেলাটা বাঞ্চনিয় হবে
চাঁদ উঠার পর…..
- নবীজি সল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম বলেন,
যার কোরবানির পশু রয়েছে, সে যেন জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি করার পূর্ব পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। (আবু দাউদ: ২৭৯১)
-তোমাদের মধ্যে যারা কোরবানি করবে, তারা যেন (এই ১০ দিন) চুল ও নখ না কাটে’। (মুসলিম: ৫২৩৩, ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা: ২২৭)

- দক্ষিণ কোলাপাড়া জামে মসজিদ

সম্মাননা ও ভালোবাসার ক্ষুদ্র উপহারআল-হেরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও আমানতদারিতা...
24/04/2026

সম্মাননা ও ভালোবাসার ক্ষুদ্র উপহার

আল-হেরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও আমানতদারিতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় জনাব বাবু ভাই এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হলো।

অত্র ফাউন্ডেশনের খাদেম এবং দক্ষিণ কোলাপাড়া জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব মুফতি মানজুর মুরশিদ সাহেবের পক্ষ থেকে তাঁর এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে একটি ক্ষুদ্র উপহার প্রদান করা হয়েছে।

এই উপহার কেবল বস্তুগত নয়; বরং তাঁর সততা, বিশ্বস্ততা ও দায়িত্ববোধের প্রতি এক বিনম্র সম্মান প্রদর্শন।

আল্লাহ তাআলা তাঁর এই খেদমত কবুল করুন, তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের সকলকে আমানতদারিতার সাথে দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান

📢 জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাআল-হেরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর সকল সম্মানিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ী ভাইদের প্রতি আন্তরিক...
24/04/2026

📢 জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

আল-হেরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর সকল সম্মানিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ী ভাইদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান—
আজকের (২৪,০৪,২৬ ইং) এশার নামাজ দক্ষিণ কোলাপাড়া জামে মসজিদে সম্মিলিতভাবে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।

নামাজের পর ফাউন্ডেশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশেষ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনা আমাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

তাই সময়মতো উপস্থিত থেকে সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সকলের প্রতি জোর অনুরোধ রইলো।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন।
জাযাকুমুল্লাহ খাইরান

01/03/2026

রোযা ভঙ্গের কারণসমূহ ও যেসব কারণে রোযা ভাঙে না
যেসব কারণে কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি
=============================

মাসআলা : রমযানে রোযা রেখে স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে।

একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমি রোযা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দিলেন। দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৭০৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭৪৫৭; মুসনাদে আহমদ ২/২৪১

মুহাম্মাদ ইবনে কা‘ব রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে (যে স্ত্রীসহবাসে লিপ্ত হয়েছিল) কাফফারা আদায়ের সাথে কাযা আদায়েরও আদেশ করেছিলেন। —মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭৪৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৬

মাসআলা : রোযা রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে।

হাদীস শরীফে আছে—এক ব্যক্তি রমযানে রোযা রেখে (ইচ্ছাকৃত) পানাহার করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ করলেন, যেন একটি দাস আযাদ করে বা দুই মাস রোযা রাখে বা ষাটজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ায়। —সুনানে দারাকুতনী ২/১৯১

ইমাম যুহরী রাহ. বলেন, রমযানে রোযা রেখে যে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করবে তার হুকুম ইচ্ছাকৃতভাবে দিনে সহবাসকারীর অনুরূপ। অর্থাৎ তাকে কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। —মাবসূত, সারাখসী ৩/৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৬

মাসআলা : বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। —রদ্দুল মুহতার ৩/৩৮৫

এই মাসআলার দলীল বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন : যাজরু আরবাবির রায়্যান আন শুরবিদ দুখান; তারবীহুল জিনান বিতাশরীহি হুকমি শুরবিদ দুখান, আল্লামা আবদুল হাই লাখনোবী রাহ.

মাসআলা : সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও আযান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে খানাপিনা করলে বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হলে কাযা-কাফফারা দুটোই জরুরি হবে। —সূরা বাকারা (০২) : ১৮৭; মাআরিফুল কুরআন ১/৪৫৪-৪৫৫

কাফফারা আদায়ের নিয়ম
================

মাসআলা : একটি রোযার জন্য দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখতে হবে। কোনো কারণে ধারাবাহিকতা ছুটে গেলে পুনরায় নতুন করে রোযা রাখতে হবে। পেছনের রোযাগুলো কাফফারার রোযা হিসেবে ধর্তব্য হবে না। তবে মহিলাদের হায়েযের কারণে ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে অসুবিধা নেই।

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, যার উপর কাফফারা হিসেবে দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখা জরুরি সে যদি মাঝে অসুস্থ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারে, তাহলে আবার নতুন করে রোযা রাখা শুরু করবে। —আলমুহাল্লা ৪/৩৩১; মাবসূত, সারাখসী ৭/১৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১৯৬

যেসব কারণে শুধু কাযা করতে হয়
=====================

মাসআলা : ওযু বা গোসলের সময় রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর পানি চলে গেলে রোযা ভেঙে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় ওযু-গোসলের সময় নাকের নরম স্থানে পানি পৌঁছানো এবং গড়গড়াসহ কুলি করবে না।

লাকীত ইবনে সাবিরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—

بَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ، إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا.

(ওযু-গোসলের সময়) ভালোভাবে নাকে পানি দাও তবে রোযা অবস্থায় নয়। —সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৩৬৩ জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৮৫

সুফিয়ান সাওরী রাহ. বলেন, রোযা অবস্থায় কুলি করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর পানি চলে গেলে রোযা ভেঙে যাবে এবং তা কাযা করতে হবে। —মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭৩৮০

আরো দেখুন : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯৮৪৪-৯৮৪৭; ফাতাওয়া শামী ২/৪০১

মাসআলা : যা সাধারণত আহারযোগ্য নয় বা কোনো উপকারে আসে না, তা খেলেও রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও ইকরিমা রাহ. বলেন, (পেটে) কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোযা ভেঙে যায়। কোনো কিছু বের হওয়ার দ্বারা রোযা ভাঙে না। —সহীহ বুখারী ১/২৬০ (তা‘লীক); বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪১০

মাসআলা : দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি থুথুর সাথে ভেতরে চলে যায় তবে রক্তের পরিমাণ থুথুর সমান বা বেশি হলে রোযা ভেঙে যাবে। —আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৬

মাসআলা : হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে রোযা ভেঙে যাবে। এটা যে ভয়াবহ গুনাহের কাজ তা বলাই বাহুল্য।

হাদীস শরীফে কামেচ্ছা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকাকে রোযার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার জান। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মেশকের চেয়েও বেশি প্রিয় (আল্লাহ তাআলা বলেন,) রোযাদার আমার জন্য পানাহার করা থেকে এবং কামেচ্ছা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকে। —সহীহ বুখারী ১/২৫৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭২; ফাতাওয়া শামী ২/৩৯৯

মাসআলা : মুখে বমি চলে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোযা ভেঙে যাবে। যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। —আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪১৫

মাসআলা : রোযা অবস্থায় হায়েয বা নেফাস শুরু হলে রোযা ভেঙে যাবে। পরে তা কাযা করতে হবে।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহায় নারীদের লক্ষ্য করে বললেন—
..أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ، قُلْنَ: بَلى، قَالَ: فَذَلِكِ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا.
..নারীরা কি ঋতুস্রাবের সময় রোযা ও নামায থেকে বিরত থাকে না। নারীরা বলল, অবশ্যই। নবীজী বললেন, এটাই তাদের দ্বীনের অপূর্ণতা। —সহীহ বুখারী, হাদীস ৩০৪; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪৪০; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া ১০০

* পেটের এমন ক্ষতে ওষুধ লাগালে রোযা ভেঙ্গে যাবে, যা দিয়ে ওষুধ পেটের ভেতর চলে যায়। বিশেষ প্রয়োজনে এমন ক্ষতে ওষুধ লাগালে পরবর্তীতে সে রোযার কাযা করে নিতে হবে। —ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪০২

* নাকে ওষুধ বা পানি দিলে তা যদি গলার ভেতরে চলে যায় তাহলে রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে।

* মলদ্বারের ভেতর ওষুধ বা পানি ইত্যাদি গেলে রোযা ভেঙে যাবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত—

ذكر عنده الوضوء من الطعام، قال الأعمش مرة والحجامة للصائم، فقال : إنما الوضوء مما يخرج وليس مما يدخل، وإنما الفطر مما دخل وليس مما خرج.

শরীর থেকে (কোনো কিছু) বের হলে ওযু করতে হয়, প্রবেশ করলে নয়। পক্ষান্তরে রোযা এর উল্টো। রোযার ক্ষেত্রে (কোনো কিছু শরীরে) প্রবেশ করলে রোযা ভেঙে যায়, বের হলে নয় (তবে বীর্যপাতের প্রসঙ্গটি ভিন্ন)। —ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪০২

মাসআলা : সুবহে সাদিকের পর সাহরীর সময় আছে ভেবে পানাহার বা স্ত্রীসঙ্গম করলে রোযা ভেঙে যাবে। তেমনি ইফতারির সময় হয়ে গেছে ভেবে সূর্যাস্তের পূর্বে ইফতার করে নিলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। —আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১

মাসআলা : রোযা রাখা অবস্থায় ভুলবশত পানাহার করে রোযা নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাযা করা জরুরি হবে।

* অনিচ্ছাকৃত বমি হওয়ার কারণে রোযা নষ্ট হয়ে গেছে মনে করে রোযা ভেঙে ফেললে কাযা করতে হবে।

আউন রাহ. থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ. রাত বাকি আছে ভেবে সাহরী খেলেন। তারপর জানতে পারলেন, তিনি সুবহে সাদিকের পর সাহরী করেছেন; তখন তিনি বললেন, ‘আমি আজ রোযাদার নই।’ (অর্থাৎ আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে)। —মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯

আলী ইবনে হানযালা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রোযার মাসে ওমর রা.—এর নিকট ছিলেন। তার নিকট পানীয় পেশ করা হল। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ সূর্য ডুবে গেছে ভেবে তা পান করে ফেলল। এরপর মুয়াযযিন আওয়াজ দিল, আমীরুল মুমিনীন! সূর্য এখনো ডোবেনি।

তখন ওমর রা. বললেন, যারা ইফতারি করে ফেলেছে তারা একটি রোযা কাযা করবে। আর যারা ইফতারি করেনি তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। —মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬

যেসব কারণে রোযা ভাঙে না
==================

এমন কিছু কাজ আছে, যার দ্বারা রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। অথচ অনেকে এগুলোকে রোযা ভঙ্গের কারণ মনে করে। ফলে এমন কোনো কাজ হয়ে গেলে রোযা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত পানাহার করে। পক্ষান্তরে কেউ কেউ এসব কাজ পরিহার করতে গিয়ে অযথা কষ্ট ভোগ করে। সুতরাং এসব বিষয়েও সকল রোযাদার অবগত হওয়া জরুরি।

মাসআলা : কোনো রোযাদার রোযার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে তার রোযা নষ্ট হবে না। তবে রোযা স্মরণ হওয়া মাত্রই পানাহার ছেড়ে দিতে হবে।

হাদীস শরীফে এসেছে—

مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ، فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ، فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ، فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ.

যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। —সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২

মাসআলা : চোখে ওষুধ—সুরমা ইত্যাদি লাগালে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না।

আনাস রা. রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন। —সুনানে আবু দাউদ ১/৩২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫

মাসআলা : রাতে স্ত্রীসহবাস করলে বা স্বপ্নদোষ হলে সুবহে সাদিকের আগে গোসল করতে না পারলেও রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কোনো ওযর ছাড়া, বিশেষত রোযার হালতে দীর্ঘ সময় অপবিত্র থাকা অনুচিত।

আয়েশা রা. ও উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত, গোসল ফরয অবস্থায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফজর হত। অতঃপর তিনি গোসল করে রোযা পূর্ণ করতেন। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯২৬)

মাসআলা : বীর্যপাত ঘটা বা সহবাসে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে স্ত্রীকে চুমু খাওয়া জায়েয। তবে কামভাবের সাথে চুমু খাওয়া যাবে না। আর তরুণদের যেহেতু এ আশঙ্কা থাকে তাই তাদের বেঁচে থাকা উচিত।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. বলেন, আমরা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ছিলাম। ইতিমধ্যে একজন যুবক এল এবং প্রশ্ন করল, আল্লাহর রাসূল! আমি কি রোযা অবস্থায় চুম্বন করতে পারি?

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না।

এরপর এক বৃদ্ধ এল এবং একই প্রশ্ন করল।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ। আমরা তখন অবাক হয়ে একে-অপরের দিকে তাকাচ্ছিলাম।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জানি, তোমরা কেন একে-অপরের দিকে তাকাচ্ছ। শোন, বৃদ্ধ ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। —মুসনাদে আহমাদ ২/১৮০, ২৫০

আবু মিজলায রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট এক বৃদ্ধ রোযা অবস্থায় চুমু খাওয়ার মাসআলা জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর এক যুবক এসে একই মাসআলা জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। —মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৮৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০০

মাসআলা : অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (মুখ ভরে হলেও) রোযা ভাঙবে না। তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজে ভেতরে চলে গেলেও রোযা ভাঙবে না।

হাদীস শরীফে আছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তার রোযা কাযা করতে হবে না। —জামে তিরমিযী ১/১৫৩, হাদীস ৭২০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৪

মাসআলা : শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে রোযা ভাঙ্গবে না।

কাতাদাহ রাহ. বলেন, রোযাদারের তেল ব্যবহার করা উচিত, যাতে রোযার কারণে সৃষ্ট ফ্যাকাশে বর্ণ দূর হয়ে যায়। —মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/৩১৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩

মাসআলা : শুধু যৌন চিন্তার কারণে বীর্যপাত হলে রোযা ভাঙবে না। তবে এ কথা বলাই বাহুল্য যে, সব ধরনের কুচিন্তা তো এমনিতেই গুনাহ আর রোযার হালতে তো তা আরো বড় অপরাধ। —ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৬

* কামভাবের সাথে কোনো নারীর দিকে তাকানোর ফলে কোনো ক্রিয়া-কর্ম ছাড়াই বীর্যপাত হলে রোযা ভাঙবে না। তবে রোযা অবস্থায় স্ত্রীর দিকেও এমন দৃষ্টি দেওয়া অনুচিত। আর অপাত্রে কুদৃষ্টি তো গুনাহ, যা রোযা অবস্থায় আরো ভয়াবহ। এতে ঐ ব্যক্তি রোযার ফযীলত ও বরকত থেকে মাহরূম হয়ে যায়।

জাবির ইবনে যায়েদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে কামভাবের সাথে তাকানোর ফলে বীর্যপাত ঘটেছে, তার কি রোযা ভেঙে গেছে?

তিনি বললেন, না। সে রোযা পূর্ণ করবে। —মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬-২৫৯

আরো দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; ফাতাওয়া শামী ২/৩৯৬

মাসআলা : মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃত পেটের ভেতর ঢুকে গেলেও রোযা ভাঙবে না।

* অনুরূপ ধোঁয়া বা ধুলোবালি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলা বা পেটের ভেতর ঢুকে গেলে রোযা ভাঙবে না।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কারো গলায় মাছি ঢুকে গেলে রোযা ভাঙবে না। —মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/৩৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩

মাসআলা : স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভাঙবে না।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ ভরে বমি হল। তিনি তখন বললেন—

ثلاث لا يفطرن الصائم : القيء، والحجامة، والحلم.

তিন বস্তু রোযা ভঙ্গের কারণ নয় : বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। —সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/২৬৪

মাসআলা : চোখের দু-এক ফোঁটা পানি মুখে চলে গেলে রোযার ক্ষতি হয় না। তবে তা যদি গলার ভেতর চলে যায় তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। —আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩

মাসআলা : সুস্থ অবস্থায় রোযার নিয়ত করার পর যদি অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে যায় তাহলে রোযা নষ্ট হবে না।

নাফে রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. নফল রোযা অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে যান, কিন্তু এ কারণে রোযা ভাঙেননি। —সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/২৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬৮; মাবসূত, সারাখসী ৩/৮৮
মাসিক আলকাউসার || শাবান-রমযান ১৪৪৪ || মার্চ-এপ্রিল ২০২৩ ]
#রমাযানুল_মুবারক_মাসিক_আলকাউসার
#আপনি_যা_জানতে_চেয়েছেন_মাসিক_আলকাউসার

27/02/2026

'যাকাত' কী, কখন ফরয হয়?
----------------------------------------
যাকাত একদিকে যেমন আল্লাহর হক, অন্যদিকে তা বান্দারও হক। অথচ যত পার্সেন্ট মুসলিম নামায পড়ে, তারা সকলে যাকাত আদায় করে না। আবার যারা যাকাত দেয়, তারা সকলে সঠিকভাবে হিসাব করে দেয় না। তাই আমরা যাকাতের মাসআলা জেনে সঠিকভাবে যাকাত আদায়ের চেষ্টা করি।

◑ যাকাতযোগ্য সম্পদ পাঁচ ধরনের:
১. স্বর্ণ-রুপা
২. টাকা-পয়সা
৩. ব্যবসায়িক পণ্য
৪. পশু-জন্তু
৫. উশরী জমি।

প্রথম প্রকারের ব্যাখ্যা:
স্বর্ণ-রুপা গয়না হোক বা না হোক, ব্যবহার হোক বা না হোক। সোনা-রুপার সামগ্রী, কাপড় বা লেইস ইত্যাদি।

দ্বিতীয় প্রকারের ব্যাখ্যা:
মৌলিক প্রয়োজন বাদে উদ্বৃত্ত টাকা নেসাব পরিমাণ হলে। চাই তা জমা থাকুক বা ব্যবসায় খাটানো হোক, ব্যাংকের ব্যক্তি মালিকানাধীন সকল প্রকার একাউন্ট। কারেন্ট, সেভিংস, ডিপোজিট, ফিক্সড ডিপোজিট, লকার, লাইফ ইন্সুইরেন্স সহ সব ধরণের একাউন্ট, এফডিআর এবং সিকিউরিটি মানি, এডভান্সের টাকা (যা পরে ফেরত পাবে) ও প্রভিডেন্ট ফান্ড (যেটা বাধ্যতামূলক নয়), এমনকি হজ্ব, বাড়ি নির্মাণ ও বিয়ের জন্য জমা করা হলেও।

◑ বায়না নামার টাকার মালিক বিক্রেতা। তাই এগুলো বিক্রেতার মালিকানার সাথে হিসাব হবে এবং তার উপর উপর যাকাত আসবে।
◑ ঋণ বা বিক্রিত পণ্যের বকেয়া টাকার যাকাত ঋণদাতা ও বিক্রেতার উপর আসবে।
◑ স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা স্ত্রীর হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে যাকাত ফরয হয় না।
◑ পেনশনের টাকা হস্তগত হলে যাকাত দিতে হবে, যদিও উত্তলন না করা হয়।

তৃতীয় প্রকারের ব্যাখ্যা:
দোকান বা অন্য কোথাও রাখা ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যা কিছুই থাকুক না কেন, যেমন ব্যবসার নিয়তে জমি বা ফ্ল্যাটের ন্যায় স্থাবর কোনোকিছু ক্রয় করলে অথবা মুদি সামগ্রী, কাপড়, স্বর্ণ-রুপা, গরু-ছাগল, গাড়ি, ফ্রিজ, মোবাইল, কম্পিউটার, বই বা ফার্ণিচারের ন্যায় অস্থাবর কোনোকিছু ক্রয় করলে।

◑ মিল/কারখানা, বিল্ডিং, ভাড়ার ফ্ল্যাট অথবা প্লটের উপর যাকাত না আসলেও উৎপাদিত পণ্য, কাঁচামাল ও আয়ের উপর যাকাত আসবে।

★ প্রশ্ন: ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য তো তিন ধরনের: খুচরা, পাইকারি, গড় মূল্য, তাহলে কোনটা দিবে?
উত্তর: পাইকারি মূল্য উত্তম, তবে গড় মূল্যও দিতে পারবে।
★ প্রশ্ন: মূল্য কোন দিনের ধরা হবে?
উত্তর: আদায়ের দিনের।

যাকাত ফরয হওয়ার জন্য পাঁচ শর্ত
---------------------------------------------
প্রথম শর্ত:
সুস্থ মস্তিষ্ক, বালেগ, মুসলিম হওয়া।

দ্বিতীয় শর্ত:
মৌলিক প্রয়োজন উদ্বৃত্ত নেসাবের মালিক হওয়া। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত যাকাতযোগ্য সম্পদ তথা স্বর্ণ-রূপা, টাকা পয়সা, ব্যবসায়িক পণ্য ইত্যাদি নেসাব পরিমাণ থাকা।
আর মৌলিক প্রয়োজনের বস্তু দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যা জীবনধারণকে সংকটময় করা থেকে নিরাপদ করে। যেমন: খাবার-দাবার, বসবাসের ঘর, ফ্রিজ, ব্যবহারের মোবাইল ও কম্পিউটার, সমরাস্ত্র, শীত ও গরম থেকে বাঁচার প্রয়োজনীয় পোশাক ইত্যাদি। অথবা সংশ্লিষ্ট পেশার হাতিয়ার বা আসবাবপত্র, বাহন-জন্তু, জ্ঞানী সমাজের প্রয়োজনীয় বই।

একথা স্বতসিদ্ধ যে, সবার প্রয়োজন এক পর্যায়ের হয় না। যেমন যে ব্যক্তি আলেম নয়, তার জন্য ইলমী কিতাব মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত নয়। তেমনিভাবে, কারো নিকট মেহমান বেশি আসে। তাই অনেক বিছানাপত্র তার প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু অন্যের ক্ষেত্রে তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিবেচিত হবে। মোটকথা, ঐসব আসবাবপত্র, যেগুলো কখনো ব্যবহারের সুযোগই আসে না বা আসলে বৎসরে দু' এক বার, তা নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত।

নেসাব
---------
নেসাব হলো, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ ও সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা।
◑ টাকা-পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে রূপার নেসাব তথা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য হিসাব করবে। যেমন রূপার তোলা যদি ৩২০০ টাকা হয়, তাহলে এক লাখ ৬৮ হাজার টাকায় নেসাব হবে।

◑ কিছু স্বর্ণ আর কিছু টাকা থাকলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমতুল্য হলে যাকাত আসবে।
উল্লেখ্য, কিছু টাকা বলতে যা মাসিক প্রয়োজনের বেশি হবে। যেমন ৫ হাজার টাকা চেয়ে বেশি জমা থাকা।

তৃতীয় শর্ত:
সম্পদগুলোর উপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া। তবে চাইলে অগ্রিম দিতে পারবে।
◑ বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হবে অর্থাৎ বছরের মাঝে ও শেষে যা যোগ হবে, সেগুলোর উপর বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না।

◑ বছরের হিসাব আরবি হিসেবে ধরে মাসের যেদিন/তারিখ থেকে মালিক হবে তখন থেকে শুরু ধরতে হবে, ইংরেজি মাস বা রমযান মাস থেকে শুরু নয়। আর যেদিন/তারিখ নেসাবের বছর পূর্ণ হবে, তখন থেকে ধরতে হবে।
উল্লেখ্য, অনেকে শুধু রমযানকে যাকাতের বছর মনে করেন, আবার এর জন্য কোন নির্দিষ্ট দিন বা তারিখ ঠিক করেন না। ফলে সঠিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যাকাত আদায় হয় না। বরং কিছু যাকাত জিম্মায় থেকে যায়। তাই বছরের যেকোনো তারিখকে নির্দিষ্ট করতে হবে। এবং ঐদিন যত সম্পদের মালিক হবে, এগুলোর হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।

চতুর্থ শর্ত:
নেসাবের ক্ষেত্রে সাধারণ ঋণ প্রতিবন্ধক না হওয়া।
ঋণ দুই প্রকার।
১. সাধারণ ঋণ, যা মোটামুটি স্বাচ্ছন্দে জীবনধারণের প্রয়োজনে করা হয়।
২. development ঋণ বা বড় লোকের ঋণ এবং স্ত্রীর মোহরানার ঋণ, যা সহসাই দেওয়ার ইচ্ছা নেই।
সাধারণ ঋণ যাকাতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। অর্থাৎ যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে এই প্রকার ঋণকে হিসাব করে মোট সম্পদ থেকে বিয়োগ করতে হবে।
আর ব্যাংক লোন/ডেভলপমেন্ট লোন প্রতিবন্ধক নয়। তবে চলতি বছরের আদায়যোগ্য লোন বিয়োগ করা যাবে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিতভাবে কোন বিজ্ঞ আলেমের থেকে জেনে নিবেন।

পঞ্চম শর্ত:
সম্পদ হালাল হতে হবে। কেননা হারাম সম্পদের উপর যাকাত আসে না। বরং তা মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে।
◑ হালাল ও হারাম সম্পদ মিশ্রিত থাকলে শুধু হালাল পরিমাণ সম্পদের উপর যাকাত আসবে।

যাকাত আদায় সহিহ হওয়ার জন্য এবং পূর্ণভাবে দায়মুক্ত হওয়ার জন্য শর্ত
--------------------------------------------------------------------------------
১. যাকাত প্রদানের সময় নিয়ত করা জরুরী। তবে পৃথক করে রাখলে নতুন করে করতে হবে না।
◑ যাকাতের টাকা আদায়ের আগে চুরি বা নষ্ট হলে পুনরায় দিতে হবে।

২. স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে যাকাত দিতে পারবে না। এভাবে বংশগতভাবে নিজের উপরের ও নিচের দিকের কাউকে দিতে পারবে না। যেমন মাতা-পিতা, দাদা-নানা বা যারা তার জন্মের উৎস এবং নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও তাদের অধস্তনকে দেওয়া যাবে না।
তবে মেয়ের জামাই ও ছেলের বউকে দিতে পারবে এবং আপন ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগ্নে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা ও অন্যান্য আত্মীয় যাকাতের উপযুক্ত হলে দেওয়া যাবে।

৩. নির্দিষ্ট খাত তথা আটটি খাতে দিতে হবে।
◑ নির্দিষ্ট খাতের ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নেসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্যান্য সম্পদ, যেমন- ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতো, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত আছে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে না। তবে এ ব্যক্তির ওপর কুরবানী ও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।
সারকথা, যার উপর কোরবানি ও সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব, সে যাকাত খেতে পারবে না।

* যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নেসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্যান্য সম্পদ, যেমন- ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতো, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত আছে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে না। এ ব্যক্তির ওপর কুরবানী ও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। (আল-মুহীতুল বুরহানী ৩/২১৬)

* যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্ত যে, ঋণ পরিশোধের পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। (আল-মুহীতুল বুরহানী ৩/২১০)

৪. মুসলমানকে দিতে হবে। কাজেই কোন কাদিয়ানী, হিজবুত তাওহীদ, সেক্যুলার বা ডেমোক্রেসির প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও গণতন্ত্রপন্থীকে যাকাত দিলে আদায় হবে না।

৫. প্রাপ্তবয়স্ক ও বুঝমানকে দিতে হবে। তবে যেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বুঝমান ছেলে-মেয়ের পিতা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত, সেই ছেলে-মেয়েকে দেওয়া যাবে।

৬. পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে পারবে না। যেমন কাজের লোককে, ইমাম-মুয়াজ্জিনকে। তবে আত্মীয়-স্বজন ও দ্বীনদার ব্যক্তি যাকাতের উপযুক্ত হলে, তাদেরকে দেওয়া উত্তম।

৭. যাকাত গ্রহণকারীর মধ্যে মালিক হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে এবং দেওয়ার সময় তাকে পূর্ণ মালিক বানিয়ে দিতে হবে।
◑ তাই মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফন, জনকল্যাণ মূলক কাজ, মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ, টিভি চ্যানেলের জন্য যাকাত দিলে আদায় হবে না। এবং পাওনা ঋণের টাকা যাকাত হিসেবে কর্তন করলে আদায় হবে না।

৮. আরবি বছর হিসেবে দিলে শতকরা ২.৫% দিতে হবে। আর ইংরেজি বছর হিসেবে দিলে ২.৬% দিতে হবে।
◑ বিকাশের মাধ্যমে দিলে খরচ নিজেকে বহন করতে হবে।
◑ যাকাতের জন্য নিম্নমানের আলাদা কোন কাপড় শাড়ি লুঙ্গি ইত্যাদি নেই। তবে টাকা না দিয়ে ওই পরিমাণ ভালো মানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা দরকারি কাপড়-চোপড় কিনে দিলেও যাকাত আদায় হবে।

মনে রাখবেন, যাকাত গরিবের উপর আপনার অনুগ্রহ নয়; বরং এটা তার হক, যা আপনার কাছে রয়েছে। কাজেই হকদারকে তার হক সম্মানের সাথে প্রদান করা উচিত।

23/02/2026

Address

প্রধান কার্যালয় : দক্ষিণ কোলাপাড়া জামে মসজিদ, শ্রীনগর
মুন্সিগঞ্জ।

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Hera Welfare Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share