05/11/2025
এই নাটক ট্রেন্ডিংয়ে আছে!
০২/১১/২৫ রাত ১২টার পর থেকে এক পরিচিত নাম্বার থেকে বারবার হোয়াটসঅ্যাপে কল আসছে। আমি কেটে দিচ্ছি, কিন্তু থামছে না। বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এসআই বেনুদা, ডিবির অফিসারসহ সবাই আমরা মাঠে কাজ করে ক্লান্ত।
হঠাৎ আবার সেই নাম্বার থেকেই একটি টাইপ করা অপহরণের অভিযোগ আসে হোয়াটসঅ্যাপে।
কল ব্যাক করতেই অপরপ্রান্ত থেকে কণ্ঠ—
“ভাই, আমার ভাই জাহাংগীরকে অপহরণ করেছে। চোখ, হাত, পা বেঁধে মেসেঞ্জারে ছবি পাঠিয়েছে। বলছে, ৫ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলবে!”
আমি বললাম, “ছবিগুলো আমাকে পাঠাও, আর থানায় অভিযোগ দাও।”
উত্তর এলো, “থানায় অভিযোগ দিয়েছি স্যার, কপিটা নিয়ে আমরা ডিবি অফিসে এসেছি।”
ডিবি অফিসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় একটা।
অভিযোগপত্র পড়ে জানলাম—
ভিকটিম জাহাংগীর বিকেল ৫টার পর থেকেই নিখোঁজ। রাত ১১টার পর থেকে তার পরিবারের মেসেঞ্জারে অপহরণের ছবি পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করছে কেউ।
আমরা বাদীর পরিবারকে জিজ্ঞেস করলাম, “জাহাংগীরের বন্ধু রাব্বির কাছে গিয়েছিলেন?”
তারা জানালো, “গিয়েছিলাম। রাব্বি বলেছে বিকেলে শহরে দেখা হয়েছিল, তারপর জাহাংগীর অটোতে বাড়ির পথে গেছে।”
জাহাংগীরের ফোন বন্ধ, মাঝে মাঝে শুধু মেসেঞ্জার খুলছে–বন্ধ হচ্ছে।
এদিকে এডিশনাল এসপি রেজিনুর স্যার ও আশিক ভাইয়ের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আমরা শুরু করলাম বিশ্লেষণ।
এসআই বেনুদা বললো, “স্যার, এখনই অভিযান চালাই।”
রাত প্রায় আড়াইটা।
ওসি ডিবি স্যার বললেন, “আমি জেগে আছি, তোমরা যাও। দরকার হলে আমিও যাবো।”
সেই রাতেই আমরা পাবনার চর কোশাখালি এলাকায় রাব্বির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করি।
প্রথমে রাব্বি আগের মতো একই গল্প বলল—“জাহাংগীর বিকেলে দেখা করে অটোতে চলে গেছে।”
কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই প্রযুক্তিগত প্রমাণসহ নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি খুলে বলল সত্যটা—
> “স্যার, এটা আসলে অপহরণ না। জাহাংগীর নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছে। সে চেয়েছিল তার ভাইদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করতে। সে অনেক টাকা জুয়ায় হেরেছে—প্রায় ৩-৪ লাখ।
ও আমাকে বলেছিল, হাত-পা-চোখ বেঁধে কিছু ছবি তুলে দিতে—বদলে ১৫ হাজার টাকা দিবে। আমি তাই করেছিলাম, স্যার।”
আমরা রাব্বির ঘর থেকে চোখ বাঁধার গামছা ও দড়ি উদ্ধার করলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, “জাহাংগীর এখন কোথায়?”
রাব্বি জানালো, “স্যার, ও বলেছিল দূরে চলে যাবে।”
সকালে জাহাংগীরের ফোন খোলা পেয়ে যোগাযোগ করা হলো। জানিয়ে দেওয়া হলো—
> “তোমার অপহরণের নাটক শেষ হয়েছে। রাব্বি সব স্বীকার করেছে।”
সে কোন জবাব না দিয়ে কুমিল্লা থেকে পাবনায় ফিরে আসে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানায়—
> “স্যার, আমি অনেক ধার দেনায় জর্জরিত। তাই এমন কাজ করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি আর কখনও এমন করবো না।”
জুয়া শুধু অর্থ নয়, নষ্ট করে বিবেক, বিশ্বাস আর জীবনও।
নিজেকে বাঁচাও, পরিবারকে রক্ষা করো — জুয়া থেকে দূরে থাকো।
এসআই অসিত কুমার বসাক ডিবি, পাবনা এর ওয়াল থেকে।