05/03/2025
পীর - মুরীদী ইয়ে আওর লোগোকি কাম হে
হামারা কাম খোদা কি তালেবকো খোদাতক পৌঁছা দেনা।।
অর্থাৎ পীর মুরীদী অন্যলোকের কাজ আর আমার কাজ হচ্ছে আল্লাহ সন্ধানীদের আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া।
কুতুবে মাদার, ইমামুত তরিকত শাহ ছৈয়্যদ আবদুল বারী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী ( রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
আগামি ৬ রমজান এ মহান মনীষীর বেছাল শরীফের সুমহান দিন।
মাত্র ৪১ বছরের অল্প হায়াতে জিন্দেগীর জীবনে দু'টি জাহেরী সিলসিলা
০১. চিশতিয়া তরিকার হযরত মিয়া করিম বখশ (রা.) যিনি শেখুত তরিকত হযরত হামেদ হাছান আলভী আজমগড়ি (রা.)'র পিতার হাতে ফয়েজ তাওয়াজ্জু বায়েত ও তালিমের ইজাজত প্রাপ্ত হন।
০২. মোজাদ্দেদীয়া সিলসিলার পীর সাহেব ছিলেন - হযরত শাহসূফি গোলাম সালমানী মোজাদ্দেদী (রা.)। তিনির কাছে মোজাদ্দেদীয়া সিলসিলার ফায়েজ তাওয়াজ্জুহ ও বাইয়াত হয়ে তালিমের এজাজত প্রাপ্ত হন।
এ ছাড়া কাদেরীয়া, নকশবন্দীয়া, সোহরার্দিয়া, করনীয়া ইত্যাদি সিলসিলা তিনি ওয়ায়েসি সূত্রে তরিকতের ইমামগণ উনাকে কবর শরীফ থেকে উঠে এজাজত প্রদান করেন। তজ্জন্য এগুলোকে ওয়াইসি সিলসিলা বলা হয়।
"সাজে আবাদ ইয়া খোদা দিলে ওয়াইরানেরা "
হে আল্লাহ! তুমি আমার অনাবাদী অন্তর আবাদ করো।
দিনের তিনি ১০/১২ ঘন্টা মোরাকাবায় লিপ্ত থাকতেন আর মোরাকাবায় উক্ত ফার্সি শের আবৃত্তি করতেন।
কুতুবে মাদার হযরত শাহ ছৈয়্যদ আবদুল বারী ওয়াইছি (রা.)'র পিতার দিকে হাসানী আর মাতার দিকে হোসাইনী বংশ। আওলাদে রাসুল (দ.)'র বৈশিষ্ট হচ্ছে -
০১.তাঁরা আত্মসন্মানি হন।
০২. ব্যক্তিত্ববান হন
০৩. হ্নদয়বান হন।
০৪. হকের উপর অবিচল থাকা
০৫. দুনিয়ার রাজা বাদশাহ এর মুখাপেক্ষি না হওয়া।
০৬. হালাল ইনকাম করা।
০৭. নির্মল চরিত্রের অধিকারী হওয়া।
০৮. মানুষকে সত্যের পথে ডাকা।
শাহ ছৈয়্যদ আব্দুল বারী (রাহ.) রেলওয়ের কর্মকর্তা ছিলেন। ভাল চাকুরী করতেন। খুব স্বাচ্ছন্দ ছিল উনার জীবনে। একদা রাত্রে উনার পিতাকে স্বপ্নে দেখেন। পিতা বলছেন- তুমি আমার সন্তান হয়ে যে চাকুরী করছো তাতে হারাম মিশে যাচ্ছে। সকালে ছৈয়্যদ শাহ (,রা.) বড় কর্মকর্তার কাছে চাকুরীর ইস্তফা দিলে দরখাস্থ দিলেন। বড় কথা বললেন- এ সময়ে আপনার পদে এত ভাল চাকুরী পাওয়া খুব সোজা কথা নয়। আমি আপনাকে এক সপ্তাহ সময় দিলাম আপনি চিন্তা করুন। আমি এক সপ্তাহ পরে তা গ্রহন করবো। তখন হয়তো আপনার মনের অবস্থা পরিবর্তন হতে পারে। এক সপ্তাহ পরেও তিনি (রা.) সিদ্ধান্তে অটল থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে উপোষের জীবন বেছে নিয়েছেন। তিনি বলতেন, যে রিজিক খেলে আল্লাহ পাকের নুরী জগতের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় সে রিজিক খাওয়া থেকে উপোষ থাকা শ্রেয়।
ঘরে রান্না হতোনা তবুও খালে পাত্রে পানি দিয়ে উনুনে বসিয়ে দিতেন, যেন ধোয়া উঠে। বাড়ির লোকেরা যেন জানে এ ঘরের কেউ না খেয়ে নেই, রান্না হচ্ছে।
ঘরের ভিতরে বৃষ্টির পানি পড়তো। উনার বিবি বড় কচুপাতা মাথায় ধরে রাখতেন, তখন তিনি মুরাকাবায় থাকতেন। উপোষ থাকতে থাকতে তিনি ৪১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। তবুও বান্দাহর কাছে হাত পাতেননি, কারো মূখাপেক্ষি হননি, হালাল পথ থেকে একচুল বিচ্যুত হননি।
হযরত আল্লামা শাহ আলতাফুর রহমান আলভী (রা.)লেখেন-
"ছৈয়্যদে মা আবদে বারী ছু কমর
আ'ইমামে দাওরায়ে রা বে আশর"
ইমামুত তরিকত, কুতুবে মাদার হযরত শাহ ছৈয়্যদ আবদুল বারী (রা.)'র কুতুবিয়্যাত ও কুতুবে মাদার পদ পাওয়ার ঘটনাগুলো হ্নদয়ে রেখাপাত করে।
কলকাতার ডায়মন্ড হারবারে এক বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন। হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব (রা.) বলতেন, তিনি ৪০ জন আবদালের মধ্যে অন্যতম। হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব (রা.)'র প্রতি উক্ত ব্যক্তির আন্তরিকতাপূর্ন ভালবাসার দৃষ্টি ছিল। ইমামুত তরিকত সময়ে পেলে উক্ত কুতুবের সাথে সাক্ষাত করতেন। উক্ত কুতুব যদিও ভারতীয় ছিলেন তবে আল্লাহ পাকের ততফ হতে দায়িত্বশীল সারা পৃথিবীর ৪০ জন আবদালের একজন৷ হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব (রা.)'র সাথে আন্তিরিকতা ও হ্নদ্যতাপূর্ন আলাপ- আলোচনা হতো প্রায়ই।
এ আবদালের ইন্তেকালের পর উক্ত পদে ইমামুত তরিকত হযরত শাহ ছৈয়্যদ আবদুল বারী ওয়াইছি (রা.) স্থলাভিষিক্ত হলেন। অন্যান্য কুতুবেরাও হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব (রা.)'র প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টি দিতে লাগলেন।
সেই সময়কার কুতুবে মাদার ছিলেন পবিত্র মক্কায় অবস্থানকারী হযরত শেখ আবুল হাসান (রা.)। তিনি পবিত্র মক্কা হতে হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব (রা.) প্রতি দৃষ্টি দিতেন এবং বাতেনী সম্পর্ক সৃষ্টি করলেন। হযরত আজমগড়ি হযরত বলেন, কুতুবে মাদার হযরত শেখ আবুল হাসান পবিত্র মক্কা হতে হুগলিতে প্রত্যেহ তাশরিফ আনতেন সুবহানাল্লাহ। উক্ত উক্ত ঘটনা শুনে "সাওয়ানেহ হায়াত" 'র লেখক হযরত মাওলানা সাঈদ খান (রা.) প্রশ্ন করলেন, কোথায় পবিত্র মক্কা আর কোথায় কলকাতার হুগলী? উত্তরে আজমগড়ি হযরত বলেন, মাঝে মাঝে হযরত শেখ আবুল হাসান তাশরিফ আনতেন আর মাঝে মধ্যে হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব (রা.) পবিত্র মক্কায় তাশরিফ নিতেন। এভাবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন ও তালিম চলতে থাকে। আরও বলেন, রূহানী সফরে দূরত্ব কোন বিষয় নয়।
কুতুবে মাদারের দায়িত্বে হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব(রা.):-
যখন হযরত শেখ আবুল হাসান (রা.) ইন্তেকাল করলেন খানায়ে কাবার আশে পাশে আবদাল ও আওলিয়া কেরামের সমাবেশ হলো। প্রত্যেকেই উদগ্রীব ছিলেন কুতুবে মাদার তথা বেলায়েতের সর্বোচ্চ পদটি কার সৌভাগ্য নচিব হয়। হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব হুজুর (রা.) উক্ত মজলিশে উপস্থিত ছিলেন।এবং নিজেকে খুব নগন্য, অযোগ্য, তুচ্চ মনে করে সবার পিছনে একটি স্থানে দাড়িয়েছিলেন।
হযরত জিব্রাঈল (আ.) জমরুদ (সবুজ রং এর পাথরের তাজ) নিয়ে অবতরণ করলেন এবং হযরত ছৈয়্যদ আবদুল বারী শাহ নাম ধরে ডাকলেন। হযরত ছৈয়্যদ ছাহেব দ্রুত গিয়ে হাজির হলেন। ঠিক তখনই জিব্রাঈল (আ.) জমরুদের তাজ ছৈয়্যদ ছাহেব হুজুরের মাথার উপর রাখলেন এবং পবিত্র খানায়ে কাবার দিকে ইংগিত করে বললেন, "আজ হতে আপনাকে এ কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হলো"। " এ ঘটনার পর হতে হযরত ইমামুত তরিকত, কুতুবে মাদার শাহ ছৈয়্যদ আবদুল বারী ছাহেব (রা.) কুতুবে মাদারের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। মূলত: কুতুবে মাদার, সুলতানুল আওলিয়া, যুগের গাউছুল আজম লকবগুলো।
তথ্যসূত্র :-
বিস্তারিত জানতে পড়ুন-
০১. সাওয়ানেহ হায়াত, কৃত আল্লামা সৈয়্যদ সাঈদ খান (রা.)।
০২. একটি আদর্শ জীবন, কৃত ড. আনোয়ারুল হক খতিবী।